ফ্রিল্যান্সিং এ সফলতার জন্য শুরুত্ব পূর্ণ কিছু টিপস

ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে, ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট, ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য বিড, পেমেন্ট মেথড, এফিলিয়েট মার্কেটিং

ফ্রিল্যান্সিং জগতে হাতে খড়ি দিতে প্রয়োজন অনেক সাধনা, ত্যাগ আর ধৈর্য। এর কোনটি ধরে রাখতে না পারলে সফল হওয়া সম্ভব নয়। ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ করে আয় করার জন্য অনেক আগ্রহ থাকা সত্বেও কিছু ভুল ধারণা মনে বাসা বাধার কারণে মাঝ পথে গিয়ে অনেককেই ফিরে আসতে হয়। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক ফ্রিল্যান্সিং এ সফলতার জন্য শুরুত্ব পূর্ণ কিছু টিপস-

১) ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে গেলে সর্ব প্রথমেই অনেক বড় ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে এমন মানসিকতা নিয়েই ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ শুরু করতে হবে।

২) বিভিন্ন ধরনের  ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করতে হবে। যেমন-  Upwork, Freelancer, Elance ইত্যাদি পৃথিবীর সবচেয়ে পপুলার আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এই মার্কেটপ্লেস গুলো এছাড়াও আরও অনেক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে রয়েছে।

৩) কখনোই মনে করা যাবেনা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেই রাতারাতি বড় লোক হয়ে যাব।

৪) অনলাইনে আয় করার অনেক পথ আছে, আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে গিয়েই যদি ভাবতে থাকেন এই পথে সফল হওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কাজের শুরুতেই আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন।

৫) যে কোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে একাউন্ট করার পর আপনি সাথে সাথে কাজ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কাজ না পেলে আশাহত হয়ে বিড করা ছেড়ে দিবেন এমন ভাবনা মন থেকে বাদ দিন।

৬) আপনি কাজ পাওয়ার জন্য যে বিড গুলো করবেন সেগুলো যেন গ্রহণযোগ্য হয়। মিনিমাম আওয়ারলি রেইট ৩ ডলার রাখুন আর সর্বোচ্চ রেইট আপনার কাজের দক্ষতা অনুযায়ী দিন।

৭) ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে আপনার টাকা আয় করার চেয়ে  ফীডব্যাকের গুরুত্ব অনেক বেশী এটা হাইলাইট করার চেষ্টা করুন। আর সব সময় বায়ারের বাজেটের মধ্যে বিড করুন।

৮) কাজের জন্য বিড করার সময় কভার লেটারটি অবশ্যই আকর্ষনীয় করে লিখবেন, বায়ারকে সম্বোধন করবেন স্যার কিংবা ডিয়ার হায়ারিং ম্যানাজার এভাবে, আপনি কাজটি করতে পারেন এবং করতে আগ্রহী তা বুঝিয়ে লিখুন, এর চেয়ে বেশি কিছু লিখতে না যাওয়াই ভাল।

৯) একটি কভার লেটার বার বার কপি করে সেটা সব জায়গায় পেস্ট করবেন না, তাহলে কাজ পাওয়ার যে সম্ভাবনা থাকবে সেটাও হারাবেন।

১০) সাধারণত কাজ পাওয়ার মুখ্য সময় গভীর রাত অর্থাৎ রাত ১টা থেকে ৪টা এই সময়ে কাজ বেশি পোস্ট হয়, তাই এই সময় এপ্লাই করলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।  অন্য সময় এপ্লাই করতে গেলে দেখবেন আপনি এপ্লাই করার আগেই অনেকজন এপ্লাই করে ফেলেছে, এর মধ্যে হায়ার হয়েছে কয়েকজন আর ইন্টারভিউতে কল পেয়েছে আরো কয়েকজন, আর তাই সেখানে আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা অতি নগন্য।

১১) পেমেন্ট মেথড ভেরিফাইড এমন বায়ার দেখেই কাজের জন্য এপ্লাই করবেন, এছাড়া অন্য বায়ারদের গ্যারান্টি নেই, আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়ে ভাগতে পারে।

১২) Microworkers এর মত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে গুলোতে রেজিস্ট্রেশন করুন। এখানে ছোট ছোট কাজ করে আয় করতে পারবেন। অনলাইনে এটির মত আরো অনেক গুলো সাইট আছে, আপনি সে গুলোতে চেষ্টা করতে পারেন যদি বড় মার্কেটপ্লেস গুলো আপনার জন্য সুবিধা জনক মনে না হয়।

১৩) যারা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেছে, তারা শুধু এটা শুরু করেই ক্ষান্ত হয়নি, পাশাপাশি চেষ্টা করেছে ব্লগিং কিংবা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজ। আপনিও একই নীতি এপ্লাই করুন সফল হলে আপনিই বুঝতে পারবেন অনলাইনে আয় করা আপনার জন্য কতটা সহজ এবং কোন কোন পথ গুলো আপনার জন্য কার্যকরী।

১৪) যে কোন ক্ষেত্রে সফল হবার জন্য পরিশ্রম করতে হয়, এছাড়া সাফল্য এসে হাতে ধরা দিবেনা। অনলাইনে আয়ের যে বিষয় গুলো আপনার ভাল লাগে সে বিষয় গুলো আপনি নিয়মিত স্টাডি করুন।  এবং এই বিষয় গুলোর দিকেই সময় দিন, লেগে থাকুন, আউট পুট অবশ্যই আসবে। আপনাদের জন্য আমাদের শুভ কামনা রইলো।

Tags: , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top