ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াই কোটি টাকা জরিমানা

ফেসবুক, ফেসবুকে, ডেভিড স্কট, কেনেথ রথ, মোটেল, ফেসবুক পোস্ট, ইলেকট্রিশিয়ান ডেভিড স্কট fine

ফেসবুকে অন্য কাউকে কমেন্ট করে বা কিছু পোস্ট করে অপমান করা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। কারোর উপর রাগ হলে বা অথবা বিরক্তি বোধ করলে অনেকেই সেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফেসবুক কমেন্ট কিংবা স্টেটাসের মাধ্যমে। অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা ডেভিড স্কটও এমনটাই করেছিলেন। কিন্তু তার পরিণাম যে এতটা ভয়াবহ হবে তা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।

৭৪ বছর বয়সের কেনেথ রথ ছিলেন একটি কলেজের উপ অধ্যক্ষ। তিনি চাকুরী থেকে অবসর নেয়ার পর স্ত্রী এবং নাতি নাতনিদের সাথে মিলে নিউ সাউথ ওয়েলসে দুটি মোটেল খুলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। দিব্যি সুখেই কাটছিল তাদের জীবন। কিন্তু সবকিছু গোলমাল করে দেয় ইলেকট্রিশিয়ান ডেভিড স্কট এর কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট। সেই পোস্ট গুলিতে স্কট দাবি করেন, নিজের মোটেল গুলিতে জেল পালানো আসামিদের ঠাঁই দিচ্ছেন রথ, তাছাড়াও কিশোরীদের দিয়ে চালানো হচ্ছে যৌন ব্যবসা।

এই পোস্ট গুলো দেখে হতভম্ব হয়ে যান কেনেথ রথ। কারণ নিজের মোটেলে মাঝে মধ্যে গৃহহীন মানুষদের আশ্রয় দিলেও, অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া অথবা কিশোরীদের দিয়ে মধুচক্র চালানোর কথা তিনি ভাবতেই পারেন না। তাছাড়া ডেভিড স্কট নামের ঐ ব্যক্তিকে তিনি কোন কালেও চেনেন না। কিন্তু ফেসবুকের অন্য ব্যবহারকারীরা তো আর সেকথা জানেন না। ফলে ক্রমশ কেনেথ রথের মোটেল দুটিতে লোক আসার সংখ্যা ক্রমেই কমতে থাকে।

এরপর শুরু হয় ফোনে হু‌মকি এবং গালাগালের বন্যা। মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত রথ ফেসবুকেই কাতর হয়ে আবেদন রাখেন স্কটের কাছে, তিনি যেন তার প্রতি অবমাননাকর ওই কথা গুলো প্রত্যাহার করে নেন এবং মিথ্যা বলার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু বৃদ্ধ রথের অনুনয়ে মন গলেনি ডেভিড স্কটের। তিনি তার পোস্টটি প্রত্যাহার তো করেনইনি, উল্টে আরও রথের স্ত্রীকে কারা যেন ফোন করে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া শুরু করে।

এই সামাজিক অপমান সহ্য করতে পারেননি রথ। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে মাস ছয়েক শুয়ে থাকতে হয় তাকে। রথের পরিবার বাড়ি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র বসতি গড়ে তলেন। কিন্তু বাড়ি বদলালেও মনের জোর হারায়নি রথের পরিবারের। রথের স্ত্রী পুত্র স্থির করেন, এবার তাদের রুখে দাঁড়ানো উচিৎ। তারা নিউ সাউথ ওয়েলসের আদালতে ইলেকট্রিশিয়ান ডেভিড স্কটের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

আদালত পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেয়, ডেভিড স্কটের যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন। ফলে স্কটকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পাশাপাশি তার ফেসবুক পোস্টের কারণে রথ এবং তার পরিবারকে যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে, তার জন্য তাদের ক্ষতি পূরণ বাবদ দেড় লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান ডলার দিতে স্কটকে নির্দেশ দেয় আদালত। বাংলাদেশী মুদ্রায় টাকার পরিমাণটা কোটি  মতো (৯০ লাখ ৪২ হাজার টাকা)।

আদালতে যখন ডেভিড স্কটকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কেন তিনি রথের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ঐ অবমাননাকর পোস্ট গুলো করলেন, তখন স্কট জানান, তিনিও রথকে চেনেন না। কিন্তু লোক মুখে শুনেছিলেন, রথের মোটেল গুলিতে অবৈধ কাজ কর্ম চলছে। তারই ভিত্তিতে ফেসবুকে ওই পোস্ট গুলো করেন। কিন্তু চিন্তা ভাবনা না করেই ফেসবুকে কাউকে অপমান করার যে এই রকম ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে, তা তিনি কখনো দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি।

Tags: , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top