অলিম্পিকের খবর সংগ্রহ করছে রোবট সাংবাদিক!

Olympic news

পঠিত সংবাদটি মানুষ, না কি রোবট তৈরি করেছে, কিছুদিন পর হয়তো বা পাঠককেই ঠিক করে নিতে হবে। রোবট সাংবাদিকের উত্থান ঘটে গেছে! এইতো, অলিম্পিকের আসরে ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে কাজ করছে একটি রোবট সাংবাদিক এবং তার নাম হেলিওগ্রাফ।

শিল্প কলকারখানায় অনেক আগে থেকেই রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনতো দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতা থেকে শুরু করে হোটেলে খাবার পরিবেশনের কাজও পর্যন্ত করছে রোবট। সাংবাদিকতাই বা বাদ থাকবে কেন? ব্রাজিলে চলতি অলিম্পিক গেমসে রোবট প্রতিবেদক ব্যবহার করছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। এই রোবট সাংবাদিককে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি ও ব্যবসা বিষয়ক ওয়েব সাইট বিজনেস ইনসাইডার।

অলিম্পিক মানুষের সক্ষমতার উপর প্রকৃতি প্রদত্ত সীমাবদ্ধতা জয়ের আসর। সেই আসরেই কিনা যন্ত্রের উপর আরো বেশি নির্ভরশীল হল ওয়াশিংটন পোস্ট। হেলিওগ্রাফ কিন্তু ক্রীড়া প্রতিবেদকদের মত প্রেসবক্সে ল্যাপটপ হাতে নিয়ে বসে থাকেনা। এটি মূলত এক ধরনের গাণিতিক পরিভাষা। স্টেটস ডটকম নামের ওয়েব সাইট থেকে এটি খেলা সম্পর্কিত সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।

তারপর সেটিকে বিশ্লেষণ করে কয়েক বাক্যের ছোট পোস্ট তৈরি করতে পারে এবং সেই পোস্ট গুলো সরাসরি চলে যায় ওয়াশিংটন পোস্টের লাইভ ব্লগ ও টুইটার অ্যাকাউন্টে। এমনকি অন্যান্য সংবাদের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন নিউ মিডিয়া, যেমন ফেসবুক মেসেঞ্জারেও এই পোস্ট চলে যেতে পারে। এছাড়া অ্যামাজন ইকোতে এটি অডিও আপডেটও দিতে পারে।

এই ব্যাপারে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এর কৌশলগত উদ্যোগ বিভাগের পরিচালক জেরেমি গিলবার্ট বলেন, এর আগের অলিম্পিকের আসরে, বিশেষ করে ২০১২ সালে লন্ডনে আমাদের নিজস্ব সম্পাদক, প্রতিবেদক ও প্রযোজক ছিলেন। তাদের দিনে ১২ ঘণ্টা করে অলিম্পিকের ইভেন্ট গুলো দেখতে হতো এবং খেলার ফলাফল লিখে রাখতে হতো। এতে করে আমরা ইভেন্ট গুলো শেষ হওয়া পর্যন্ত লাইভ ব্লগ চালাতে পারতাম।

অলিম্পিকে মোট ৩৩০টি মডেলের ইভেন্ট আছে। আগে যখন অলিম্পিকে এত খেলার জন্য পুরস্কার দেওয়া হতোনা, তখন কিন্তু তথ্যের পরিমাণ কম ছিল। কিন্তু এখন হতো বেশি তথ্য থাকে যে তা বিশ্লেষণ করতে কর্মীদের অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। এমন রোবট ব্যবহার করার পর স্বাভাবিক ভাবেই নড়েচড়ে বসেছে ওয়াশিংটন পোস্টের ক্রীড়া বিভাগ। বিভাগটির পক্ষ থেকে গিলবার্টের সাথে এটা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিভাগটি বলছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার অর্থ শুধু দ্রুততম সময়ে পাঠকের কাছে অলিম্পিকের সংবাদ পৌঁছে দেওয়ায় নয়, বরং রিওডি জেনিরোতে কাজ করা ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকদের কষ্ট যেন বৃথা না যায়, সেই দিকটিও বিবেচনা করতে হবে।

এই ব্যাপারে জেরেমি গিলবার্ট বলেন, প্রকৃত প্রতিবেদকদের কাজকে নিখুঁত ও সম্পূর্ণ করার জন্যই এটি করা হচ্ছে। অলিম্পিকে রিওতে আমাদের এক ডজনের বেশি সাংবাদিক কাজ করছেন। এছাড়া মূল অফিসের নিউজ রুমে কাজ করছেন আরও অনেকে। তারা যে গল্পটি বলার চেষ্টা করেন, সেটি শুধুমাত্র একজন মানুষই করতে পারে।

তবে সংবাদ তৈরি করতে রোবটের ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বহু মাত্রিক হবে বলেই মনে করেন গিলবার্ট। তিনি বলেন, প্রকৃতি গত দিক থেকে সংবাদ এখন পরিবর্তন হচ্ছে। আমি জানি না রোবটের তৈরি সংবাদ পুলিৎজার পুরস্কার পাবে কিনা, তবে এটি যে আপনার জন্য সংবাদ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে সেটি নিশ্চিত। ওয়াশিংটন পোস্ট ইতিমধ্যে মধ্যে এমন কিছু কাজও করেছে।

Tags: , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top