সফলভাবে ব্লগিং শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল

ব্লগ, ব্লগিং, ভিজিটর, ট্রাফিক, টার্গেটেড অডিয়েন্স, পাঠক, কম্পিউটার, নিয়মিত ব্লগিং, কাঙ্ক্ষিত ফলোয়ার, কাঙ্ক্ষিত ভিজিটর, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন, দৃষ্টিনন্দন কন্টেন্ট, ইউজার ফ্রেন্ডলি, ব্লগিং শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল, ব্লগিং শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস, ব্লগ শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল, ব্লগ শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস

বর্তমানে আমাদের দেশে ব্লগিং শব্দটা এখন কম বেশি সবার কাছে বেশ পরিচিত একটি বিষয়। ব্লগিং অনেক ভাবেই করা যায়, সাধারণত অনেকে শখের বশেই ব্লগিং করে থাকে। কিন্তু অনেকেই জানেনা ব্লগিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করাও সম্ভব। তবে প্রফেশনাল ভাবে ব্লগিং শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। নিম্নে কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা আপনার ব্লগের পরিচিতি বাড়াতে এবং কাঙ্ক্ষিত ভিজিটর বা ট্রাফিক পেতে অনেক সাহায্য করবে।

নির্দিষ্ট বিষয়ঃ

প্রথমেই ঠিক করে নিন আপনি কি লিখবেন এবং কাদের জন্য লিখবেন। যখন যা মাথায় আসলো সেটি না লিখে কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর লিখুন। যখন আপনি নিজে বুঝতে পারবেন, কি ধরনের পাঠক আপনার ব্লগের লেখাটা পড়তে পারে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই আপনার ব্লগের লেখার বিষয় বস্তুও তাদের চাহিদা অনুযায়ী হওয়া উচিৎ। নিজের আগ্রহ আছে এমন কোন বিষয়ের উপর লেখা পেলে পাঠকরা বার বার তা পড়তে চায়।

এছাড়াও অনেকেই নিয়মিত চেক করে দেখে ঐ ব্লগে তার পছন্দের সাথে সম্পর্কিত এমন আর কোন নতুন লেখা এসেছে কিনা। এর ফলে আপনার ব্লগে নিয়মিত পাঠকের আনাগোনা থাকবে। টার্গেটেড অডিয়েন্স অথবা পাঠক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই এই বিষয় গুলো মাথায় রাখতে পারেন। যেমন- কোন বয়সী পাঠক এর জন্য আপনি লিখতে চান, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাদের শখ, তারা কোন এলাকায় থাকে ইত্যাদি।

ব্লগের ভাষাঃ

হয়তো আপনি খুবই আকর্ষণীয় ও কার্যকর কোন বিষয়ের উপর লিখেছেন এবং সেটা নিয়ে পূর্বে কখনো কোথাও লেখা হয়নি। স্বাভাবিক ভাবেই এই লেখাটির প্রতি মানুষের আগ্রহ জন্মাবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে অনেকেই তা পড়তে এবং বুঝতে পারছে না শুধুমাত্র ভাষা না বুঝার কারণে। এক্ষেত্রে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স অথবা পাঠক এর প্রধান ভাষা কি তা জানুন এবং সেই ভাষাতেই লিখুন। যেহেতু ইংরেজি ভাষা পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই প্রচলিত, সেক্ষেত্রে এটি হতে পারে আপনার ব্লগের ভাষা, সেক্ষেত্রে যদি আপনার ব্লগের কাঙ্ক্ষিত পাঠক বিভিন্ন দেশের হয়ে থাকে।

ব্লগের বিষয়বস্তু ও নতুনত্বঃ

ধরা যাক, আপনার ব্লগের মূল বিষয় বস্তু কম্পিউটার। আপনি কম্পিউটার সম্পর্কে অনেক ভাল জানেন এবং কম্পিউটার নিয়েই আপনি ব্লগ লিখছেন। কিন্তু এই একই রকম বিষয় নিয়ে আরো অনেক ব্লগ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইন্টারনেটে। তাহলে কেন পাঠক আপনার ব্লগে আসবে? এজন্য আপনার লেখার ধরণ এবং তথ্য উপস্থাপনে অবশ্যই নতুনত্ব আনতে হবে। কম্পিউটার একটি গণনাকারী যন্ত্র, এটি না লিখে আপনি এমন কোন বাক্য লিখুন যেটা একই ভাব প্রকাশ করবে এবং পরের লাইন পড়ার আগ্রহ যোগাবে। কম্পিউটার নিয়ে প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন তথ্য উপস্থাপন করুন যা সাধারণত মানুষ বা পাঠক জানে না।

নিয়মিত ব্লগিংঃ

নিয়মিত আপনার ব্লগে লিখুন। যদি আপনার ব্লগে ট্রাফিক বাড়ানোর ইচ্ছা থেকে থাকে, তাহলে পাঠকদের নিয়মিত আপনার ব্লগে উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিকল্প অন্যকোন উপায় নেই। দেখা যাচ্ছে আপনি এক সপ্তাহে আপনার ব্লগে ৭টি পোস্ট দিলেন, কিন্তু পরের সপ্তাহে একটিও পোস্ট দিলেন না, তাহলে আপনি ভিজিটর বা পাঠক হারাবেন। কারণ ভিজিটর বা পাঠক আপনার ব্লগে এসে দেখবে আজ নতুন কোন পোস্ট নেই, কালও নতুন কোন পোস্ট নেই, তাহলে তো পরশু দিন তারা নতুন কোন ব্লগ খুঁজে নিবে যেটা নিয়মিত তাদের পছন্দের পোস্ট দেয়।

ফলোয়ারদের আলোচনার স্থানঃ

শুধুমাত্র আপনি সুন্দর সুন্দর বিভিন্ন লেখা লিখেই যাচ্ছেন, কিন্তু একবারও জানতে পারছেন না আপনার এই লেখা সম্পর্কে পাঠকের মতামত, এটা কখনোই আপনার ব্লগকে সফল করবে না। কারণ আপনার দৃষ্টিতে হয়তো যেটা দুর্দান্ত লেখা পাঠকের দৃষ্টিতে সেটা সুপার ফ্লপও হতে পারে। আবার আপনার কাছে যে লেখাটি তেমন ভাল লাগেনি সে লেখাটি দেখা যাচ্ছে পাঠকের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাই এই সমস্ত ব্যাপার গুলো বুঝার জন্য অবশ্যই পাঠকের সঙ্গে আপনার আলাপচারিতা জরুরী।

প্রত্যেকটি পোস্টে কমেন্ট বা মন্তব্য করার অপশন রাখুন, পাঠককে উৎসাহ করুন তার ভাল লাগা অথবা খারাপ লাগা জানাবার, এমনকি একজন পাঠক অন্য আরেকজন পাঠকের সাথে আলাপচারিতার মাধ্যমে আপনার ব্লগকে আরো তথ্য বহুল এবং গ্রহণ যোগ্য করে তুলতে পারে। এছাড়াও ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাস, লিংকডইন, পিন্টারেস্ট ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে আপনার পোস্ট গুলো শেয়ার করুন। কারণ বর্তমানে এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে ব্লগে পাঠক সংখ্যা বাড়ানোর।

প্রমোট করুনঃ

আপনার ব্লগের লেখার মান অনেক ভাল, টপিক বা বিষয় গুলো খুবই আকর্ষণীয়, কার্যকরী ইত্যাদি সব ভাল গুণাবলীতে আপনার ব্লগ ভরপুর। কিন্তু এর পরেও কাঙ্ক্ষিত ফলোয়ার বা ভিজিটর পেতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় হয়তো পাঠক জানতেই পারছেনা যে এতো সুন্দর একটা ব্লগ আপনি তৈরি করেছেন। এজন্য আপনার ব্লগটির প্রচার করতে হবে। প্রথমদিকে যদি একটু ভালভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে কিছুদিন পর দেখবেন এমনিতেই অনেক ভিজিটর বা ট্রাফিক পেয়ে যাচ্ছেন আপনার ব্লগে।

তো কিভাবে করবেন আপনার ব্লগটির প্রচারের ব্যবস্থা? বিভিন্ন ওয়েবসাইট যাদের ভিজিটর সংখ্যা অনেক বেশি অথবা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, টিভি, রেডিও, সংবাদপত্র ইত্যাদিতে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এই ক্ষেত্রে কিছু টাকা আপনার খরচ হবে। কিন্তু আপনি যদি আপনার ব্লগ থেকে বেশি বেশি পরিমাণে আয় করতে চান, তাহলে এইটুকু খরচ আপনাকে অবশ্যই করতেই হবে। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ সফল ব্লগ গুলো এভাবেই তাদের প্রচারণা চালিয়ে পরবর্তীতে সফল হয়েছে।

দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন এবং কন্টেন্টঃ

আপনার ব্লগের ডিজাইন যতটা সম্ভব সুন্দর রাখার চেষ্টা করুন। কারণ দৃষ্টিকটু কালার, ডিজাইন, ফ্রন্ট ইত্যাদি পাঠকের চোখে পড়লে একবারের বেশি আপনার ব্লগে আসবে না। এমন ভাবে ব্লগ তৈরি করুন যেন এটা ইউজার ফ্রেন্ডলি হয়। এক্ষেত্রে ভাল কোন ওয়েবসাইট ডিজাইনার অথবা ওয়েবসাইট ডেভেলপার এর কাছ থেকে আপনার ব্লগের ডিজাইন বা ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করিয়ে নিতে পারে। প্রতিটি পোস্টের সাথে সবসময় একটি সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ছবি দেওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক সময় দেখা যায় সাদামাটা একটা লেখার সাথের ভাল ছবি দেওয়ার কারণে লেখাটি অনেক আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।

এক্ষেত্রে অবশ্যই লেখার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছবি ব্যবহার করবেন। এছাড়াও আপনার লেখাতে যেন বানান এবং ব্যাকরণগত ভুল না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখবেন। আপনি ভুল বানান লিখলেন, ব্যাকরণগত ভুল করলেন, এক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই আপনার দেয়া তথ্যের উপর ভিজিটর বা পাঠক সন্দিহান হয়ে পড়বে। এজন্য লেখা শেষ হওয়ার পর তা স্পেল চেকার এবং সম্ভব হলে ব্যাকরণে দক্ষতা আছে এমন কাউকে দিয়ে চেক করিয়ে নিতে পারেন।

Tags: , , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top