ল্যাপটপ ভাল রাখার গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস

কম্পিউটার, ল্যাপটপ, অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার, ভালমানের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার, ভাইরাস, সফটওয়্যার, ল্যাপটপ এর কিবোর্ডে, শর্ট সার্কিট, ল্যাপটপের ডিসপ্লে, ল্যাপটপ সার্ভিসিং সেন্টার, ল্যাপটপ কভার, ডিসপ্লে, কিবোর্ড, মনিটর, ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক, প্রসেসর, ল্যাপটপ ভাল রাখার টিপস

কোন প্রকার সমস্যা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি ল্যাপটপ ব্যবহার করার জন্য নিয়মিত যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। ল্যাপটপে কোন ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথেই সেটি ঠিক করে নেওয়া ভাল। তবে পূর্বে থেকে সতর্ক থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই এই সব সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলতে হবে। নিম্নে এই বিষয় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল-

অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারঃ

কম্পিউটার বা ল্যাপটপে অবশ্যই একটি ভালমানের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা উচিত। হয়তো আপনি ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় বুঝে শুনে বিভিন্ন প্রকার ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন, অনলাইন থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার ফাইল ডাউনলোড দিচ্ছেন অথবা পেনড্রাইভ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ফাইল স্থানান্তর করছেন।

কিন্তু বর্তমান সময়ের ভাইরাস গুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেগুলো ব্যবহারকারীর চোখ ফাকি দিয়ে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সফটওয়্যার গুলো অকার্যকর করে দেওয়া, তথ্য মুছে ফেলাসহ এই জাতীয় আরো অনেক প্রকার ক্ষতি সাধন করতে পারে। এছাড়াও কম্পিউটার বা ল্যাপটপটি একেবারে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তুলতে পারে।

বাতাস চলাচলঃ

সব সময়ই ল্যাপটপ এমন জায়গায় ব্যবহার করা উচিত, যে জায়গায় বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কোন আশঙ্কা থাকবে না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, এটি সবসময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোন স্থানে গিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

তরল পদার্থঃ

পানি, চা, কফিসহ সকল প্রকার তরল পদার্থ থেকে ল্যাপটপটি সবময় দূরে সরিয়ে রাখুন। কারণ ল্যাপটপে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিভিন্ন প্রকার ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ থাকে। তরল পদার্থের সংস্পর্শে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। আবার শর্ট সার্কিটের কারণে পুরো ল্যাপটপটিই অচল হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে সহজ সমাধান হল, সব ধরনের তরল পদার্থ আপনার ল্যাপটপ থেকে দূরে সরিয়ে রাখুন।

খাবার খাওয়াঃ

ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় কখনোই খাবার খাওয়া উচিত নয়। অসাবধানতাবশত খাবার এর কোন অংশ ল্যাপটপে পড়লে ময়লা হয়ে যেতে পারে। এছাড়া খাবারের ক্ষুদ্র কণা গুলো ল্যাপটপ এর কিবোর্ডে আটকে থাকলে সেখান থেকেও বিভিন্ন প্রকার ব্যাকটেরিয়ার সৃষ্টি হতে পারে। এগুলো আবার কোনভাবে মূল সার্কিটের সংস্পর্শে এসে শর্ট সার্কিট হলে ল্যাপটপ এর বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

স্থানান্তরঃ

সবসময় ল্যাপটপ স্থানান্তরের সময় ল্যাপটপের মূল অংশ ধরে সরানো উচিত, কখনোই শুধুমাত্র ডিসপ্লে ধরে সরানো উচিত নয়। সাধারণত ল্যাপটপের ডিসপ্লের ওজনের চেয়ে মূল অংশ বেশি ভারী হয়ে থাকে। তাই ডিসপ্লে বা পর্দা ধরে ল্যাপটপটি স্থানান্তর করার চেষ্টা করলে এই দুই অংশের সংযোগ স্থানটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ভেঙ্গে যাওয়ারও সম্ভবনা থাকে।

সার্ভিসিংঃ

নির্ভরযোগ্য কোন কম্পিউটার বা ল্যাপটপ সার্ভিসিং সেন্টার থেকে বছরে অন্তত একবার ল্যাপটপ সার্ভিসিং করানো উচিত। দীর্ঘদিন ধরে ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে এর ভিতরে জমে থাকা ধুলা ময়লা পরিষ্কার করার জন্যই প্রয়োজন এই সার্ভিসিংয়ের। তবে কখনোই না জেনে, না বুঝে নিজে নিজে পণ্ডিতি করা উচিত নয়।

ল্যাপটপ কভারঃ

ল্যাপটপ বহন করার জন্য সবসময় অতিরিক্ত একটি কভার ব্যবহার করা ভাল। এটি সাধারণত স্ক্র্যাচ, ধুলা ময়লা ইত্যাদি থেকে আপনার ল্যাপটপটিকে নিরাপদে রাখবে। আর এটির আকার অবশ্যই ল্যাপটপ এর সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ হতে হবে।

পরিষ্কার পরিছন্নতাঃ

ল্যাপটপ এর পর্দা, কিবোর্ড এবং অ্যাডজাস্ট ফ্যানের জায়গা গুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ধুলা ময়লা পরিষ্কার করার জন্য নরম কাপড় বা ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি ব্যবহারিত পুরানো টুথব্রাশ দিয়েও ল্যাপটপের বাইরের অংশ গুলো পরিষ্কার করা যেতে পারে।

ল্যাপটপের উপর ভারী কিছু না রাখাঃ

আপনার ল্যাপটপ বা কিবোর্ডের উপর কখনোই ভারী কিছু রাখা উচিত নয়। কারণ ল্যাপটপ ভারী কিছু রাখার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। এজন্য ভারী বই বা অন্য কিছু রাখা হলে ডিসপ্লে, কিবোর্ড বা অন্যান্য যন্ত্রাংশের ক্ষতি হতে পারে।

পর্দার প্রতি যত্নশীলঃ

কাজ শেষ করার পর ল্যাপটপ বন্ধ করার পর মনিটর বা ডিসপ্লে ভাঁজ করে রাখা উচিত। আবার অনেক সময় ল্যাপটপের পর্দা সরাসরি ভাঁজ করে স্ট্যান্ডবাই মোডে রাখা হয়। এই সময় যেন কিবোর্ডের উপর কোন পেন্সিল, হেডফোন বা অন্য কিছু না থাকে। এইসব রেখে মনিটর বা পর্দা ভাঁজ করলে ডিসপ্লের ক্ষতি হতে পারে।

দ্রুত তাপমাত্রা পরিবর্তনঃ

হঠাৎ করে চলমান ল্যাপটপ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে বাহিরের উষ্ণ তাপমাত্রায় স্থানান্তর বা উষ্ণ তাপমাত্রার স্থান থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত তাপমাত্রার স্থানে স্থানান্তর করা উচিত নয়। দ্রুত তাপমাত্রা পরিবর্তন হলে চলমান ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক এবং প্রসেসর সহজে মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে ল্যাপটপটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বৈদ্যুতিক সংযোগঃ

ল্যাপটপ চালু অবস্থায় ল্যাপটপে বৈদ্যুতিক সংযোগ অর্থাৎ পাওয়ার কানেকশন দেওয়া বা খুলে ফেলা উচিত নয়। ল্যাপটপ বন্ধ থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বা দেওয়াই উত্তম। আর বৈদ্যুতিক সংযোগ যদি আপনার পায়ের কাছাকাছি কোথাও থাকে, তাহলে ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন।

গাড়িতে ফেলে না রাখাঃ

বদ্ধ গাড়ি একটি উচ্চ তাপমাত্রার জায়গা। স্বাভাবিক ভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে ল্যাপটপটি সেখানে ফেলে রাখা উচিত নয়। এছাড়াও ল্যাপটপ বা ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনতাই কারীদের আকৃষ্ট করতে পারে।

Tags: , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top