যে সমস্ত ভুলের কারণে ভিজিটর হারায় একটি ওয়েবসাইট

ব্লগ, ওয়েবসাইট, ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো, ট্রাফিক, ভিজিটর, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, এসইও, ৩০১ রিডাইরেক্টশন, পার্মালিংক, পার্মালিংক পাল্টানো, প্লাগিন, রিডাইরেক্ট, সাইটম্যাপ, সাইটম্যাপ মিসিং, এক্সএমএল সাইটম্যাপ, ওয়ার্ডপ্রেস এসইও প্লাগিন, এইচটিএক্সেস ফাইল, রোবট ডট টেক্সট ফাইল,মেটা টাইটেল ও ডেসক্রিপশন, থিম, ফ্রি থিম, প্রিমিয়াম থিম, কাস্টম থিম, ওয়েবসাইট সিকিউরিটি, ব্যাকআপ, ওয়েবসাইট ব্যাকআপ

ব্লগ বা ওয়েবসাইট নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হল ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো। কিন্তু ভিজিটর বাড়ানোর বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না জানার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী তারা ভিজিটর বাড়াতে পারে না। আবার অনেকেই আছেন যারা ব্লগ বা ওয়েবসাইটে একেবারেই নতুন। সেক্ষেত্রে তারা এমন সব ভুল করে থাকে, যে ভুল গুলো ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কাঙ্ক্ষিত ট্রাফিক বা ভিজিটর আনতে ব্যর্থ হয়। আবার অনেক সময় ব্লগ বা ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।

সেই সময় ব্লগ বা ওয়েবসাইটের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন অর্থাৎ এসইও সম্পর্কে ভাল ধারণা না থাকার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল গুলোর কারণে ট্রাফিক বা ভিজিটর হারিয়ে যায়। এই ভুল গুলো সম্পর্কে, যারা ব্লগ বা ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করেন তাদের সকলেরই সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এখানে সেই রকমই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুল গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই ভুল গুলো আপনি শুধরে নেওয়ার মাধ্যমে পুরাতন ভিজিটর এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত নতুন ভিজিটর পেতে পারেন।

৩০১ রিডাইরেক্টশন ব্যতীত পার্মালিংক পাল্টানোঃ

একটা ব্লগ বা ওয়েবসাইটের সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও এর জন্য পার্মালিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যদি একটি নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট শুরু করেন সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে একটি ক্লিন পার্মালিংক ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তবে সমস্যা হল, পুরাতন ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর পার্মালিংক পাল্টানো। সঠিকভাবে পার্মালিংক না পাল্টানো হলে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আপনার পূর্বের পোস্ট গুলোর লিংক আর কাজ করবে না।  ফলে আপনি ঐ পোস্ট গুলোর লিংক থেকে ভিজিটর বা ট্রাফিক হারাবেন।

এবার নিশ্চয় চিন্তায় পড়ে গেছেন, চিন্তার কিছুই নেই, এই সমস্যা সমাধানের উপায়ও রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা একটি পার্মালিংক থেকে অন্য একটি পার্মালিংকে মাইগ্রেট করার প্লাগিন ব্যবহার করতে পারি। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ৩০১ রিডাইরেক্টশন ব্যবহার করতে হবে। আপনি খুব সহজেই ৩০১ রিডাইরেক্টশন চেকারের মাধ্যমে আপনার রিডাইরেক্ট হওয়া পার্মালিংক গুলো চেক করতে পারবেন। আর একটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন, তাহল পার্মালিংক পাল্টানোর পর সাইটম্যাপ রিজেনারেট করে পুনরায় সার্চ ইঞ্জিনে সাবমিট করবেন।

সাইটম্যাপ মিসিংঃ

কোন ওয়েবসাইটের ইনফরমেশন বা পোস্ট গুলো সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করার জন্য সাইটম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সাইটম্যাপ এর জন্য গুগল এক্সএমএল সাইটম্যাপ এবং ওয়ার্ডপ্রেস এসইও  প্লাগিন খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও আপনি ছবি ও ভিডিও ইনডেক্স করার জন্যও এই ধরণের প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইটে যদি বেশি পরিমানে ভিডিও ফাইল থাকে তাহলে আপনি ইয়স্ট ভিডিও এসইও প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও সাইটম্যাপে কোন লিংক মিসিং আছে কিনা কিছুদিন পরপর সেটি পরীক্ষা করা ভাল। প্রয়োজন হলে সাইটম্যাপটি আনচেক করে পুনরায় চেক করে নিতে হবে।

এইচটিএক্সেস ফাইলঃ

পার্মালিংক রিডাইরেক্টশন বা এইচটিএক্সেস অপটিমাইজেশন সমাধানের জন্য অনেকেই এইচটিএক্সেস ফাইল পরিবর্তনের কথা জানান। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফাইল, এজন্য এই ফাইলটি পরিবর্তনের সময় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই ফাইলটি পরিবর্তন করতে চাইলে আগে অবশ্যই ফাইলটির ব্যাকআপ নিয়ে নেবেন। এই ফাইলটিতে কোন ধরনের মিসিং হলে শুধুমাত্র ট্রাফিক নয়, আপনার পুরো ওয়েবসাইটটি ডাউন হয়ে যেতে পারে। আপনি এইচটিএক্সেস ফাইল পরিবর্তনের জন্য মেটা রোবট প্লাগিন ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের সিপ্যানেল বা এফটিপিতে কোন পরিবর্তন হলে সেটা আনডু করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

রোবট ডট টেক্সট ফাইলঃ

রোরট ডট টেক্সট ফাইল ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল। যখন সার্চ ইঞ্জিনের বোট আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে আসে, তখন এই ফাইলটি সার্চ ইঞ্জিনের বোটকে নির্ধারণ করে দেয় কোন পেজ বা পোস্ট গুলো ইনডেক্স করবে আর কোন গুলো ইনডেক্স করবে না। এজন্য আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিনে ভাল অবস্থানে রাখার জন্য অবশ্যই রোবট ডট টেক্সট ফাইলটিকে ভালভাবে অপটিমাইজ করতে হবে। কখনোই বেশির ভাগ ফাইল বা পেজ ডিজঅ্যালাউ করে রাখবেন না।

প্লাগিনঃ

আপনার ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় প্লাগিন ছাড়া অহেতুক কোন প্লাগিন ব্যবহার বা ইন্সটল করে রাখবেন না। অনেক সময় অনাকাংখিত প্লাগিন ব্যবহারের ফলে ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম বেশি হয়ে যায়। যা ভিজিটর হারানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে। তাই কোন প্লাগিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই এটির গুণগত মান এবং রিভিউ দেখে নিবেন। এছাড়াও এটি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে সাপোর্ট করবে কিনা সেটিও পরীক্ষা করে নিতে পারেন।

মেটা টাইটেল ও ডেসক্রিপশনঃ

আপনি যদি ইয়স্ট ওয়ার্ডপ্রেস এসইও, অল ইন ওয়ান এসইও বা অন্যকোন এসইও প্লাগিন ব্যবহার করেন, সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে মেটা টাইটেল এবং মেটা ডেসক্রিপশনের দিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে। অন্যথায় সার্চ ইঞ্জিন এর প্রথম পেজে থাকা আপনার জন্য অনেক কষ্টের হয়ে যেতে পারে।

থিম পরিবর্তনঃ

অনেকেই কারণে অকারণে একের পর এক থিম পরিবর্তন করে থাকেন। এক্ষেত্রে আপনার সাইটের বিষয় বস্তুর সাথে মানানসই দেখে একটি ফ্রি থিম, প্রিমিয়াম থিম  অথবা  কোন ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির কাছ থেকে একটি কাস্টম থিম ডেভেলপমেন্ট করে ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রি থিম, প্রিমিয়াম থিম বা কাস্টম থিম নিয়ে বিতর্কে যেতে চাই না, তবে প্রিমিয়াম থিম বা কাস্টম থিমে অনেক ধরণের বাড়তি ফিচার বা সুবিধা থাকে। কোন থিম ইন্সটল করার পূর্বে অবশ্যই থিমটিতে কোন প্রকার ভাইরাস, স্পাইওয়ার, স্প্যাম ফাইল বা ক্ষতিকর কোন ফাইল আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করে নিন।

ব্লগ বা ওয়েবসাইট সিকিউরিটিঃ

আপনি যদি আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে কোন ফ্রি থিম ব্যবহার করতে চান। তবে অবশ্যই এটিতে কোন ম্যালিসিয়াস বা স্প্যাম ফাইল আছে কিনা সেটি পরীক্ষা করে নিন। কারণ এই ধরনের ফাইল একটি ওয়েবসাইটের ভিজিটরদেরকে অন্য ওয়েবসাইটে রিডাইরেক্ট করে দিতে পারে। এজন্য আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের সিকিউরিটির বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

ব্লগ বা ওয়েবসাইট ব্যাকআপঃ

বিপদ কখনো বলে  কয়ে আসে না! এজন্য আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের কোন ধরণের দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ নিয়ে রাখুন। তাহলে কোন প্রকার সমস্যা হলে আপনি সহজেই আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটটি রিস্টোর করে নিতে পারবেন। ব্যাকআপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের উপায় আছে। আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট এর পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে সম্ভব হলে প্রতিদিন অথবা প্রতি সপ্তাহে একবার আপনার সাইটের (ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিক) ব্যাকআপ রাখুন। কারণ কোন সমস্যার কারণে আপনার ওয়েবসাইট অনেক সময় বন্ধ থাকলে ট্রাফিকের উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে।

Tags: , , , , , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top