যেভাবে ৩৬৪ দিনে হয়েছিল এক বছর!

৩৬৫ দিনে এক বছর, লিপ ইয়ার, সামোয়া দ্বীপ, টোকিলোর দ্বীপ, সামোয়া এবং টোকিলোর বাসিন্দারা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড, সামোয়া প্রশাসন, ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং টোকিলো

ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি একটি সাধারণ জিনিস তাহল ৩৬৫ দিনে এক বছর। লিপ ইয়ার হলে ৩৬৬ দিনে হয় এক বছর। কিন্তু ৩৬৪ দিনে এক বছর খুবই অবাক করার মত একটি তথ্য। কারণ, নিয়ম অনুসারে এই রকম ঘটনা কখনোই সম্ভব নয়। কিন্তু সব নিয়ম কানন উল্টা পাল্টা করে দিয়ে এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে আমাদের এই পৃথিবীতেই। এবং পালিত হয়েছে ৩৬৪ দিনে এক বছর। ডিসেম্বর মাস ৩১ দিনের হলেও ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর দিনটি ছিলনা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং টোকিলোতে।

অর্থাৎ এই দ্বীপ দুইটির বাসিন্দারা ২০১১ সালটি পালন করেছে ৩৬৪ দিনে এক বছর হিসেবে। ২৯ ডিসেম্বর রাত ১২টা অর্থাৎ মাঝ রাতের পর সামোয়া এবং টোকিলোর বাসিন্দারা পা দেন ৩১ ডিসেম্বরে। মাঝের দিনটা অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর  তাদের ক্যালেন্ডার থেকে যেন গায়েব হয়ে গিয়েছিল ২০১১ সালে। বছর শেষ হওয়ার একদিন পূর্বেই সামোয়া এবং  প্রতিবেশী দ্বীপ টোকিলোর বাসিন্দারা মেতে ওঠেন বর্ষ শেষ হওয়ার আনন্দে। কি ব্যাপারটি খুব গোলমাল লাগছে তাই না? আসুন এবার জেনে নেই  কি কারণে তাদের জীবন থেকে বাদ দিয়েছিল এই একটি দিন।

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার পূর্বে এবং পশ্চিমে এক দিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান হয়। ১১৯ বছর পূর্বে একদল মার্কিন ব্যবসায়ী এই দ্বীপের লোকজনকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আমেরিকার সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করিয়ে দেন। এর জন্য নিজেদের বাণিজ্যিক সুবিদার কথা ভেবে আমেরিকার সাথে তাল মিলিয়ে সামোয়া এবং টোকিলোর বাসিন্দারা নিজেদের সময়ও পাল্টে নেন। কিন্তু এর জন্য তাদেরকে প্রায় ২১ ঘণ্টা সময় পিছিয়ে থাকতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড থেকে।

এর ফলে তাদের লাভের চেয়ে ক্ষতিই হচ্ছিল বেশি। এজন্য অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সাথে সমতা বজায় রাখার জন্য এবং পিছিয়ে থাকা তাদের ২১ ঘণ্টা এগিয়ে আনার জন্য সামোয়া প্রশাসন ২০১১ সালের মে মাসে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তারা তাদের চলমান বছরটির শেষ একটি দিন বিসর্জন দিবেন। আর সেই কারণেই ২৯ ডিসেম্বরের পরেই তারা চলে যায় ৩১ ডিসেম্বরে। পুরোপুরি উধাও হয়ে যায় মাঝের ৩০ ডিসেম্বর। তাদের বছর পূর্ণ হয় ৩৬৪ দিনে।

Tags: , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top