ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং এর নামে নিত্য নতুন প্রতারণা সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক থাকুন

ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোসিং, ফ্রিল্যান্সার, প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সিং আউটসোসিং, ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং ওয়ার্কশপ, অনলাইন, ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং ট্রেনিং সেন্টার, ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং, আউটসোসিং ট্রেনিং, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, আউটসোসিং প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার ঢাকা, আউটসোসিং ট্রেনিং সেন্টার ঢাকা, ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং সেন্টার বাংলাদেশ, আউটসোসিং ট্রেনিং সেন্টার বাংলাদেশ

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং নিয়ে প্রতারণা শুরু থেকেই ছিল, আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এর মধ্য দিয়েই আপনাকে নিজের বুদ্ধি মত্তাকে কাজে লাগিয়ে ভাল মন্দ বুঝে নিতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং খুব একটা কঠিন কিছু নয়। আবার পানির মত সহজ তাও কিন্তু নয়। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন শর্টকাটে প্রতারক বা অন্য কিছু হওয়া যায়, কিন্তু ফ্রিল্যান্সার হওয়া যায় না।

অনলাইন জগতে ফ্রিল্যান্সার হতে হলে আপনাকে কাজ শেখার পিছনে যথেষ্ট সময় ব্যয় করতে হবে এবং কাজ শিখে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একদিনে কেন? এক মাসেও ফ্রিল্যান্সার হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু প্রতারক মাত্রই আপনাকে বিভিন ভাবে ধোঁকা দিতে পারে। যেমন- এক/দুই হাজার টাকার বিনিময়ে আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং করার উপযোগী কাজ শিখিয়ে টাকা আয় করার ব্যবস্থা করে দিবে! এই ধরনের প্রতারক আপনি অফলাইন, অনলাইন ছাড়াও ফেসবুকে ভরিভরি পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং এর প্রতারণার ধরণঃ

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং নিয়ে প্রতারণা কারীদের মধ্যে কয়েক ধরণের বা কয়েক শ্রেণীর প্রতারক আছে। চলুন এবার এক এক করে তাদের সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিই।

প্রথম শ্রেণীর প্রতারকঃ

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং এর সব চাইতে বড় প্রতারণা হল টাকার বিনিময়ে এক/দুই দিনের ওয়ার্কশপ। সাধারণত এই শ্রেণীর প্রতারকরা ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং ওয়ার্কশপ এর নাম করে রেজিষ্ট্রেশন ফি বাবদ কিছু টাকা নেয়। সেটা হতে পারে ৫০০ থেকে ১০০০ অথবা দুই হাজার টাকা! এরপর আপনাকে কয়েক ঘন্টা বসিয়ে কিছু বয়ান দিবে, যা আপনি ইন্টারনেটে প্রতিনিয়ত দেখে থাকেন।

আবার আপনাদের কাছ থেকে রেজিষ্ট্রেশন ফি বাবদ নেওয়া টাকা থেকেই কিছু টাকা খরচ করে নাস্তা কিংবা লাঞ্চের ব্যবস্থা করবে! এই ধরনের প্রতারণা ইদানিং সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এদের কাছ থেকে খুব সাবধান থাকুন। কারণ এরা মিষ্টি মধুর কথা বলে ভবিষ্যতে আরো কিছু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা করবে।

দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রতারকঃ

এই শ্রেণীর প্রতারকরা আপনাকে বলবে, ওমুক ওয়েবসাইটে তমুক ওয়েবসাইটে গিয়ে ক্লিক করলে, প্রতি ক্লিকে ৫০ সেন্ট বা ১ ডলার করে পাবেন। প্রতিদিন ১০ বা ১৫টি ক্লিক করতে হবে। তাহলে আপনার একদিনেই ইনকাম হবে পাঁচ বা দশ ডলার! অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় ৩৯০ টাকা থেকে ৭৮০ টাকা পর্যন্ত। আবার দেখা যাবে ক্লিক করলেই সেই ওয়েবসাইটে ডলার জমাও হচ্ছে ঠিকই।

কিন্তু ডলার তুলতে গেলে কিছু টাকাও আপনাকে খরচ করতে হবে! এরপর দেখা যাবে ৫০০ ডলার তুলতে গেলে আপনার কাছে চাইবে পাঁচ বা দশ হাজার টাকা। আপনি টাকা ঠিকই দিবেন, কিন্তু সেই ডলার এর সমপরিমাণ টাকা আর আপনার হাতে আসবে না। বরং সেই প্রতারক আপনার ধরা ছোয়া বা নাগালের বাইরে চলে যাবে! এভাবে নতুনদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রতারক চক্র। যাদেরকে বলা হয়, ক্লিক পার্টি!

তৃতীয় শ্রেণীর প্রতারকঃ

রাস্তার পাশের দেয়ালে কিংবা বিভিন্ন যানবহনে পোষ্টার, স্টিকার, লিফলেট, টিউনার ইত্যাদির মাধ্যমে দেখা যাবে, ঘরে বসে আয় করুন, প্রতি মাসে বিশ/ত্রিশ হাজার টাকা! আবার কোর্স ফি চার/পাঁচ হাজার টাকা মাত্র। রাস্তায় পাশে প্রতারক টিউনারের লেখা বা অফার এমন যে, মাত্র চার/পাঁচ হাজার টাকা খরচ করলেই ব্যাস কাজ শেষ! প্রতি মাসে ঘরে বসে বিশ/ত্রিশ হাজার টাকা কেউ আপনার হাতে দিয়ে যাবে! আর আমরা সাধারণ পাবলিকও তেমন! আসল বিষয় না জেনে না বুঝে ঝুঁকে পড়ি সেই লোভনীয় অফারের দিকে। সুতরাং প্রতারক টিউনারের লোভনীয় অফারের বিজ্ঞাপন থেকে সবময় সাবধান।

ফলাফলঃ

ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, এইসব প্রতারক দলের খপ্পরে পড়ে আমরা অনেকেই এমন অনুভূতি প্রকাশ করি যে, ধুর…. ভাই এইসব ফ্রিল্যান্সিং আউটসোসিং সবই ভূয়া, ফ্রিল্যান্সিং আউটসোসিং ধান্দাবাজি, বাটপারী ছাড়া আর কিছুই না! সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে টাকা কামানো আরকি!

আসল বিষয় কি?

আসল বিষয়, ফ্রিল্যান্সিং হল একটি সম্মানজনক পেশা। যা আপনি স্বাধীন ভাবে করতে পারবেন। এবং আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী সম্মান জনক আয়ও করতে পারবেন। কঠোর পরিশ্রম ও মানসম্মত কাজ করতে পারলে আপনি অনেক বেশি পরিমাণে আয় করতে পারবেন। যা সাধারণত চাকুরী করেও সম্ভব হয় না!

এখন মনে হতে পারে, তাহলে কিভাবে এই প্রতারণার হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং আর কাজ শিখবেন ও একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন?

উত্তরঃ

১। নিজের ভিতর থেকে শর্টকাটে আয় করার চিন্তা ভাবনা দূর করুন।
২। কম্পিউটার এর বিভিন্ন প্রকারের কাজ গুলো থেকে আপনার পছন্দের কাজটি শিখুন।
৩। এর মধ্য থেকে যেসব কাজ গুলো শিখতে পারেনঃ

৪। প্রতারক দলের বিভিন্ন প্রকার লোভনীয় বিজ্ঞাপনের অফার দেখলে চোখ ঘুরিয়ে ফেলুন। দ্বিতীয়বার আর দেখার চেষ্টা করবেন না।
৫। বেশি পরিমাণে ইন্টারনেট ঘাটুন, পাশাপাশি বিভিন্ন বাংলা ব্লগ ও ইংরেজী ব্লগের লেখা পড়ুন এবং জানার চেষ্টা করুন।
৬। যেকোন বিষয় ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে শেখার পূর্বে ইউটিউব অথবা গুগলে সার্চ করে নিজে নিজে কিছু জানার ও শেখার চেষ্টা করুন।
৭। ইউটিউব অথবা গুগল থেকে কিছু জ্ঞান অর্জন করার পর ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে শিখুন।
৮। যেগুলো ইউটিউব অথবা গুগল থেকে বুঝতে ও শিখতে পারেননি সেটা ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে প্রশ্ন করে উত্তর জেনে ও শিখে নিন।
৯। যারা অভিজ্ঞ ও প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার তাদের কাছ থেকে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোসিং এর বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন।

সবসময় সতর্ক থাকুন। প্রতারক দলের হাত থেকে নিজেই বাঁচুন, অপরকেই বাঁচান। আমার লেখাটি যদি আপনার উপকারে আসে, তাহলে লেখাটি অবশ্যই শেয়ার করুন এবং অন্যদের জানার সুযোগ করেদিন। আজকের মত এখানেই শেষ করছি সবাই ভাল থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Tags: , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top