পেশা হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং

ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, বৈদেশিক মুদ্রা, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সাররা, তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং, ওয়েবসাইট, আইটি, সফটওয়্যার, মোবাইল ফোন, কম্পিউটিং, রাইটিং, কনটেন্ট, ডিজাইন, মিডিয়া, আর্কিটেকচার, ডাটা এন্ট্রি, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, বিজনেস, অ্যাকাউন্টিং, হিউম্যান রিসোর্স

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বায়নের এই যুগে কাজের ক্ষেত্র নির্দিষ্ট সীমানা অথবা নিজ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাজের ক্ষেত্র এখন সমস্ত বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত। স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে দক্ষ, অদক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার সংস্কৃতি চালু রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও এর ব্যাতিক্রম নয়। কারণ আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ আসে প্রবাসে কর্মরত ব্যক্তিদের পাঠানো রেমিটেন্স থেকে। কিন্তু বর্তমানে বিদেশে গিয়েই যে দৈহিক পরিশ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হবে এমনটা নয়।

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দেশে বসেই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার একটি সম্ভাবনাময় খাত হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং। সাধারণত অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে চুক্তি অনুযাযী কোন কাজ করাকে আউটসোর্সিং বলে। বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্স কর্মীদের অনলাইনে কাজ করার জন্য অন্যতম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আপওয়ার্ক ডট কম। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর কাজ যেকেউ যেকোন জায়গা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই করতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ে সম্ভাবনাময় দেশের তালিকায় রয়েছে আমাদের বাংলাদেশও। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্স কর্মীদের চেষ্টায় রাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তিনে উঠে এসেছে ঢাকার নাম।

ঢাকা ইতিমধ্যেই ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ে বিশ্বের সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ে আমাদের যতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে তার সম্পূর্ণ বিকাশ এখনো ঘটেনি। এর মধ্যে অন্যতম ঘাটতি রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সচেতনতার অভাব। আপওয়ার্কের এক তথ্য মতে ঢাকার ফ্রিল্যান্সারদের সফলতার পিছনে রয়েছে কম শ্রম মূল্য এবং ইংরেজিতে দক্ষতার বিষয়টি। ঢাকার ফ্রিল্যান্সাররা আউটসোর্সিংয়ে আপওয়ার্কের মাধ্যমে যেসমস্ত কাজ গুলো বেশি করে থাকে তার মধ্যে রয়েছে- গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডাটা এন্ট্রি, চেকআপ এবং অনুবাদ ইত্যাদি।

আপওয়ার্কে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ে শীর্ষ শহর গুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের চন্ডিগড়, মোহালী, ফিলিপাইন এবং ঢাকা। ফিলিপাইন ও আমেরিকার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত হচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় আউটসোর্সিং করা দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডাটা এন্ট্রির কাজ করে প্রত্যেক মাসে প্রায় হাজার ডলারের মত করে আয় করছে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, সুলভ মূল্যে দ্রুতগতি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সেবা সকলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলে দ্রুত সমৃদ্ধ হবে আমাদের ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাত।

কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ইন্টারনেট সুবিধা নেই। বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে নেই ইন্টারনেট সংযোগ। বিশ্বব্যাপী ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিংয়ের কাজের ক্ষেত্রে আপওয়ার্ক সহ অন্য যেকোন ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং বিষয়ক ওয়েবসাইটে ঢুকলে বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক কাজের সন্ধান পাওয়া যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে অবশ্যই দক্ষতা থাকা চাই। এই সকল কাজের মধ্যে রয়েছে-

ওয়েবসাইট, আইটি এবং সফটওয়্যারঃ

এখানে ওয়েবসাইট, আইটি এবং সফটওয়্যার বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। এখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কাজ জানা ফ্রিল্যান্সাররা প্রায় ১৫০ ধরনের পৃথক পৃথক কাজের সন্ধান পাবেন।

মোবাইল ফোন অ্যান্ড কম্পিউটিংঃ

মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটিং বিষয়ে যারা পারদর্শী তারা এখান থেকে কাজ নিতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সাররা এখানে ১৫ ধরনের কাজ করার সুযোগ পাবেন।

রাইটিং অ্যান্ড কনটেন্টঃ

যারা লেখা লেখিতে বেশ দক্ষ, তারা এখানে রাইটিং অ্যান্ড কনটেন্ট বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ পেতে পারেন। এখানে ফ্রিল্যান্সাররা ৩৫ ধরনের  বিষয়ভিত্তিক কাজ পাবেন।

ডিজাইন, মিডিয়া অ্যান্ড আর্কিটেকচারঃ

আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা অনেক বেশি পরিমাণে ডিজাইনের কাজ করে থাকেন। এখানে ফ্রিল্যান্সাররা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর প্রায় ৫৫ ধরনের কাজ পাবেন।

ডাটা এন্ট্রিঃ

ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং জগতে বিভিন্ন ধরনের ডাটা এন্ট্রির কাজ রয়েছে। এখানে ফ্রিল্যান্সাররা ডাটা এন্ট্রি বিষয়ে ১৫ ধরনের কাজ করতে পারবেন।

সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংঃ

সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ক্রমেই বেড়ে চলেছে এই মার্কেটিং খাতের পরিধি। এখানে ফ্রিল্যান্সাররা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ১৬ ধরনের কাজ করতে পারবেন।

বিজনেস, অ্যাকাউন্টিং, হিউম্যান রিসোর্স অ্যান্ড লিগ্যালঃ

এখানে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা বাণিজ্যের হিসাব এবং আইন সংক্রান্ত বিষয়ের উপর কাজ পাওয়া যাবে। এখানে ফ্রিল্যান্সাররা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর প্রায় ৩০ ধরনের কাজ পাবে।

Tags: , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top