দ্য ইউটিউব কিং পিউডিপাই

পিউডিপাই, ফেলিক্স কেলবার্গ, ভিডিও গেমস, ইউটিউব চ্যানেল, কমেডি ভিডিও, দ্য ইউটিউব কিং পিউডিপাই, ইউটিউবের রাজা পিউডিপাই

সুইডেনের ২৬ বছর বয়সী এই তরুণের আসল নাম ফেলিক্স কেলবার্গ। স্কুলের পড়াশোনায় তার যতটা না আগ্রহ ছিল, তার চেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল ভিডিও গেমস খেলায়। বিশ্ববিদ্যালয় এর ক্যাম্পাসে পা রেখেই ভিডিও গেমস এর পোকা ফেলিক্স কেলবার্গ সুযোগ খুঁজতে থাকেন তার আগ্রহের বিষয় নিয়ে কিছু করার। যদিও সুইডেনের চালমার্স ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে তার পড়াশোনার বিষয় ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিকস অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট।

এইটা হল ফেলিক্স কেলবার্গ এর ২০১০ সালের কথা। সেই সময় ফেলিক্স কেলবার্গ ভিডিও গেমস এর টুকটাক ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেন। আর তা সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভিডিও দেখার জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করেন। আর সেই চ্যানেলের নাম দেন পিউডিপাই, www.youtube.com/user/PewDiePie এটিই হল তার ইউটিউব চ্যানেল। কিন্তু বছর গড়াতে না গড়াতেই ইউটিউবে ভিডিও তৈরির এমন নেশা তার মাথায় ঢুকে গেল যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনাকেই বিদায় জানান তিনি।

ছয় বছর পর আজ সেই পিউডিপাই (PewDiePie) নামের আড়ালেই যেন ঢাকা পড়ে গেছে ২৬ বছর বয়সী এই তরুণের আসল নাম। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার পর পরিবার থেকে তাকে সহযোগিতা করা বন্ধ করে দেয়। তাতেও ফেলিক্স কেলবার্গ তার অগ্রযাত্রায় থেমে থাকেনি। ইউটিউব চ্যানেলকেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি, সেই সময় ভিডিও তৈরির টাকা জোগাড় করতে হটডগ বিক্রি করে শুরু করেন ফেলিক্স কেলবার্গ। ইউটিউবে চ্যানেলে ভিডিও গেমস এর ধারাভাষ্য নিয়ে লেটস প্লে নামে কমেন্ট্রির জন্য দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়ে যান তিনি।

সেই সাথে বিভিন্ন বিষয়ের উপর কমেডি ভিডিও তৈরি করে দারুণ আলোচিত হন। ২০১২ সালে তার ইউটিউব চ্যানেল ১০ লাখ সাবস্ক্রাইবার বা গ্রাহকের মাইলফলক স্পর্শ করে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইউটিউবে চ্যানেলে সর্বোচ্চ সাবস্ক্রাইবার ছিল তার! আর এই কারণেই তার নাম হয়ে ওঠে “দ্য ইউটিউব কিং” ইউটিউবে তিনি এমনই প্রভাবশালী যে ২০১৬ সালে টাইম সাময়িকী তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেয়। আর দেবেইবা না কেন, সেই সময় ১ হাজার ৩০০ কোটিরও বেশিবার সমস্ত বিশ্বজুড়ে দেখা হয়েছিল তার ভিডিও।

বর্তমানে ৪ কোটি ৮৫ লাখের বেশি ভক্ত আছে তার ইউটিউব চ্যানেলে। টুইটারে ফেলিক্স কেলবার্গের অনুসারীর সংখ্যা ৮০ লাখেরও বেশি, আর ইনস্টগ্রামেও রয়েছে ১ কোটির বেশি। ফোর্বস সাময়িকীর মতে, ২০১৫ সালে তার আয় ছিল ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু ইউটিউব এর মধ্যেই ফেলিক্স তার দুনিয়া আটকে রাখেনি। নিজের অনুসারীদের নিয়ে নানা সেবামূলক আর দাতব্য কাজ করে চলেছেন তিনি। ভক্তদের সাহায্যে পিউডিপাই এখন বিভিন্ন চ্যারিটির জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। এছাড়াও আইওএস পিউডিপাই নামে একটি অ্যাপসও বের করেছেন।

Tags: , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top