দক্ষতা নয়, বরং গুরুত্ব পাচ্ছে পরিচয়

পরিচয়, তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, লিঙ্গ বৈষম্যহীনতা, লিঙ্গ বৈষম্য, নারী কর্মী, উইথ অ্যা গিক, চাকরি প্রার্থী

প্রচ্ছদ দেখেই বই নিয়ে  মন্তব্য করা উচিত নয় তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুলোর উচিত পুরোনো এই প্রবাদ আবার নতুন করে ভাবা। অন্তত কর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমতার যে নীতি অনুসরণের কথা বলছে তারা, তাতে যদি তারা আসলেই বিশ্বাসী হয়। গত বৃহস্পতিবার তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ সরবরাহ কারী প্রতিষ্ঠান স্পিক উইথ অ্যা গিক এর জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, তথ্য প্রযুক্তির কাজের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীরাই বেশি যোগ্য। অথচ পুরুষেরা বেশি নিয়োগ পাচ্ছেন।

একদল নিয়োগ দাতার সামনে একই চাকরি প্রার্থীকে দুবার উপস্থাপন করে স্পিক উইথ অ্যা গিক। এতে ৫ হাজার চাকরি প্রার্থী অংশ নেন। প্রথম বার চাকরি প্রার্থীদের নাম, কাজের অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। নিয়োগ পাওয়া চাকরি প্রত্যাশীদের ৫ শতাংশ ছিলেন নারী। আর দ্বিতীয় বার সবার নাম, অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন রেখে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার ৫৪ শতাংশ নারী প্রার্থী কাজের সুযোগ পান।

কাজের সম অধিকার অথবা লিঙ্গ বৈষম্যহীনতা তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফেসবুক, অ্যাপল থেকে শুরু করে ইন্টেলের মত প্রতিষ্ঠান বছর শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে লিঙ্গ বৈষম্যের উপর। আগের বছর গুলোর তুলনায় এখন অবশ্য অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যেমন অ্যাপল এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩২ শতাংশ নারী কর্মী কাজ করছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন লিঙ্গ বৈষম্য কমিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মী বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কাজ যে খুব একটা হচ্ছে, তা জোর দিয়ে বলা যায়না।

স্পিক উইথ অ্যা গিকের প্রতিবেদন এখন সবাইকে একটি বিষয়ে ভাবিয়ে তুলেছে। আর তা হল, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাহলে কি দক্ষতার চেয়ে লিঙ্গ বৈষম্য বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে? নারীরা যে প্রোগ্রামিং সংকেত লেখায় অদক্ষ নন, তার প্রমাণ তো অহরহ মিলছে। এমন প্রতিবেদন অবশ্য এর আগেও প্রকাশ করা হয়েছে। এতে করে অবস্থার যে খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে, তা কিন্তু নয়। সূত্রঃ সিনেট

Tags: , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top