কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার পরিচিতি

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার, কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার পরিচিতি, কেচিং, পাওয়ার সাপ্লাই, মাদারবোর্ড, প্রসেসর, হার্ডডিস্ক, কম্পিউটার কেচিং, কম্পিউটার পাওয়ার সাপ্লাই, কম্পিউটার মাদারবোর্ড, কম্পিউটার প্রসেসর, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক

আসসালামু আলাইকুম, বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। এই প্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অনেকেই কম্পিউটার ব্যবহার করি কিন্তু কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানি না। আজকে আমি আপনাদের কম্পিউটার এর হার্ডওয়্যারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব।

কেচিংঃ

মানুষের যেমন শরীর, কম্পিউটার এর বেলায় সেটি হল কেচিং। কেচিং এর ভিতরে কম্পিউটার এর যাবতীয় হার্ডওয়্যার থাকে। যেমন- মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র‌্যাম, হার্ডডিস্ক, অপটিকেল ড্রাইভ, সিডি/ডিভিডি রম, পাওয়ার সাপ্লাই ইত্যাদি। সাধারণত পাওয়ার সাপ্লাই কেচিং এর সাথেই থাকে। কম্পিউটার এর পাওয়ার বাটন এবং রিসেট বাটন কেচিং এর সামনের দিকে থাকে। এছাড়াও কেচিং এর সামনের অংশে একটি ফ্রন্ট প্যানেল থাকে এবং এই ফ্রন্ট প্যানেলের মধ্যে অডিও ইনপুট/আউটপুট, মাইক্রোফোন, ইউএসবি পোর্ট ইত্যাদি থাকে।

পাওয়ার সাপ্লাইঃ

পাওয়ার সাপ্লাই এর কাজ হল কম্পিউটার এর প্রতিটি ডিভাসইকে ভোল্টেজ সরবরাহ করা। পাওয়ার সাপ্লাই সাধারণত কেচিং এর পিচনে উপরের দিকে থাকে। পাওয়ার সাপ্লাই ইনপুট হিসেবে ১১০ থেকে ২২০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ গ্রহণ করে এবং আউটপুট হিসেবে যথাক্রমে ৩.৩, ৫ এবং ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পাওয়ার সাপ্লাই ৩০০ ওয়াট থেকে আরম্ভ করে ১০০০ ওয়ার্ট পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাওয়ার সাপ্লাই এর ওয়াট যত বেশি হবে, কম্পিউটার থেকে ততো বেশি কার্যকরিতা পাওয়া যাবে। সাধারণত গেমিং, অ্যানিমেশন, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক্স ইত্যাদি কাজের জন্য বেশি ক্ষমতা সম্পূর্ণ পাওয়ার সাপ্লাই এর প্রয়োজন পড়ে।

মাদারবোর্ডঃ

মাদারবোর্ড হল কম্পিউটার এর একটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার ডিভাইস। কম্পিউটার এর যাবতীয় হার্ডওয়্যার ডিভাইসের কানেকশন মাদারবোর্ড এর মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে। মাদারবোর্ড যথাক্রমে ৩.৩, ৫, ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা থাকে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন মাদারবোর্ড এর সাথে বিল্ডইন ‍সাউন্ড, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি দেওয়া থাকে। মাদারবোর্ডে ইনপুট এবং আউটপুটের জন্য বিভিন্ন ধরনের পোর্ট রয়েছে। যেমন- ভিজিএ, মাইক্রোফোন, ইউএসবি, অডিও ইনপুট/আউটপুট, ইথারনেট পোর্ট ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে বাজারে বিভিন্ন প্রসেসর এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সার্কিটের মাদারবোর্ড রয়েছে। যেমন- LGA 775, LGA 1155, LGA 1156, AM2, AM2+, AM3 ইত্যাদি।

প্রসেসরঃ

কম্পিটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার হল প্রসেসর। মানুষের মাথার সাথে প্রসেসর এর তুলনা করা হয়। প্রসেসরকে আবার CPU ও বলা হয়, যার পূর্ণ রুপ হল Central Processing Unit. অর্থাৎ কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ। প্রসেসর তিনটি ধাপে কার্য সম্পাদন করে থাকে। সর্বপ্রথমে ইনপুট ডিভাইস থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে, তারপর নির্দেশ অনুযায়ী ডাটা প্রসেসিং করে এবং সর্বশেষ আউটপুট হিসেবে ফলাফল প্রদর্শন করে। প্রসেসর প্রচুর পরিমাণে গরম হয় কারণে প্রসেসর ঠাণ্ডা রাখার জন্য এর উপর হিটসিল্ক সহকারে একটি কুলিং ফ্যান সেট করা হয়।

র‌্যামঃ

র‌্যাম এর পূর্ণ রুপ হল- Random Access Memory. র‌্যামকে অস্থায়ী স্মৃতি ও বলা হয়ে থাকে। মনে করুন প্রসেসর হল আপনার মাথা আর র‌্যাম বা মেমোরী হল আপনার রাফ খাতা। আমরা যখন অংক করি, তখন কিন্তু সেটার জন্য একটি আলাদা জায়াগা রাফ করার জন্য প্রয়োজন পড়ে, র‌্যামের বেলায় ঠিক তেমনটিই ঘটে। র‌্যাম খুব দ্রুততার সাথে ডাটা রিড এবং রাইট করতে পারে। বর্তমান সময়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের র‌্যাম রয়েছে। যেমন- DDR vs, DDR2 vs, DDR3 vs, DDR4 vs ইত্যাদি।

হার্ডডিস্কঃ

কম্পিউটার এর মাদারবোর্ড, প্রসেসর এবং র‌্যামের পরেই হল হার্ডডিস্ক। হার্ডডিস্ক স্থায়ীভাবে ডাটা সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয় থাকে। হার্ডডিস্ক পাওয়ার সাপ্লাই থেকে যথাক্রমে ৫ ভোল্ট ও ১২ ভোল্ট বিদ্যুৎ ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে। হার্ডডিস্কের কার্যক্ষমতা তার ক্যাশ এবং আরপিএম এর উপর নির্ভর করে। হার্ডডিস্কের RPM যত বেশি হবে, হার্ডডিস্ক তত দ্রুত ডাটা রিড/রাইট করতে পারবে। বর্তমান সময়ে বাজারে ৫,৪০০ ও ৭২০০ RPM এর হার্ডডিস্ক দেখা যায়।

আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি। আমাদের এই পোষ্ট যদি আপনার ভাল লাগে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না, নিজে জানুন এবং অপরকে জানাতে সাহায্য করুন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Tags: , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top