আপনি কি জানেন অ্যান্টিভাইরাসও তথ্য চুরি করে!

অ্যান্টিভাইরাস, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রাম, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্পাই অ্যান্টিভাইরাস, ম্যালওয়্যারের সংক্রমণ, ভাইরাস নির্মূল, স্কেয়ারওয়্যার, অ্যান্টিভাইরাস পরীক্ষাকারী ল্যাবরেটরি, যেমন- এভি কম্পারেটিভ, এভি টেস্ট, ড্যানিশ টেকনোলজি ল্যাব

অনাকাঙ্ক্ষিত প্রোগ্রামের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা পিসিতে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা হয়। তবে অ্যান্টিভাইরাস যদি নিরাপত্তা রক্ষার নামে উলটো ব্যবহারকারীর উপর গুপ্তচর গিরি করে? হাতিয়ে নেয় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য? তাহলে নিশ্চয় তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ভার্চুয়াল জগতে এমন কিছু গুপ্তচর বা স্পাই অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে। যে অ্যান্টিভাইরাস গুলো দেখতে অন্য সকল ভাল এবং আসল অ্যান্টিভাইরাস গুলোর মতই মনে হয়ে থাকে। কারণ এই অ্যান্টিভাইরাস গুলোও অন্যান্য সকল ক্ষমতাশালী অ্যান্টিভাইরাস গুলোর মত ক্ষতিকর ম্যালওয়্যারের সংক্রমণ খুঁজে বের করে।

এই ধরনের অ্যান্টিভাইরাস গুলো দিয়ে বিনামূল্যেই স্ক্যান করা যায়। কিন্তু শনাক্তকারী ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার গুলো ডিলিট করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে ফি ক্রেডিট কার্ডের নম্বর প্রবেশ করার মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ক্রেডিট কার্ডের নম্বর এবং টাকা উভয় গুপ্তচর অ্যান্টিভাইরাস পরিচালনা কারী দলের কাছে চলে যায়। এছাড়া এই অ্যান্টিভাইরাস গুলো ব্যবহারকারীর ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে রাখা তথ্যের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়। বর্তমানে এই সমস্যাটি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এটি একটি বড় ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের চক্রান্তকারী দল গুলোর প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য কাস্টমার সার্ভিস  এবং  হটলাইন টিমও থাকে।

আসলে এই অ্যান্টিভাইরাস গুলো ব্যবহারকারীর ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ভাইরাস নির্মূল বা শনাক্ত করণ এই জাতীয় কোন কাজই করে না। এজন্যই এই অ্যান্টিভাইরাস গুলো অন্য সকল ভাল অ্যান্টিভাইরাস গুলো অপেক্ষা দ্রুততর কাজ করে, যা একজন অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারকারীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এই টুকুই যথেষ্ট। আরও এক ধরনের অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে, যেগুলো স্কেয়ারওয়্যার নামে পরিচিত। এই ধরনের অ্যান্টিভাইরাস গুলো সম্পূর্ণ ভাবে অনিষ্টকারী বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে, যা থেকে ব্যবহারকারীর নিস্তার পাওয়া খুবই দুষ্কর। কিছু স্বাধীনচেতা অ্যান্টিভাইরাস পরীক্ষাকারী ল্যাবরেটরি রয়েছে। যেমন- এভি কম্পারেটিভ, এভি টেস্ট, ড্যানিশ টেকনোলজি ল্যাব ইত্যাদি।

এই ল্যাব গুলো অ্যান্টিভাইরাস গুলোকে অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে রেখেছে। এই ধরনের অ্যান্টিভাইরাস গুলো ম্যালওয়্যারের বিপক্ষে কতটা প্রতিরক্ষা দিতে সক্ষম এটি গবেষণাই করায় তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু দুর্ভাগ্য জনক হলেও সত্য, তাদের বেশিরভাগ পরীক্ষার ফলাফলই এসেছে বিপদজনক। কিন্তু খরচ কমানোর জন্য অনেকেই ভাল এবং বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস এর বদলে এই ধরনের নকল, ক্ষতিকারক অ্যান্টিভাইরাস এর দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। আবার কিছু কিছু অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে, যেগুলো কিছুদিন বিনামূল্যে ব্যবহার করার পর কিছু পরিমাণ ফি পরিশোধ করে রেজিস্টার্ড সংস্করণ করে তবেই ব্যবহার করতে হয়।

Tags: , , , , ,

Related posts

Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.




Top